লেয়ার খামারে এগ বাইন্ড (Egg Binding) ও এগ পেরিটোনাইটিস (Egg Peritonitis) প্রতিরোধেই টেকসই সমাধান
রায়হান আবিদ
প্রাণিজ প্রোটিনের অন্যতম সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী উৎস হলো ডিম। গত দুই দশকে পোলট্রি বিজ্ঞানীদের গবেষণা ও খামারিদের অক্লান্ত পরিশ্রমে দেশের বাণিজ্যিক পোলট্রি শিল্পের ব্যাপক সম্প্রসারণের হয়েছে। বর্তমানে দেশের কোটি কোটি মানুষ প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ডিমকে একটি অপরিহার্য উপাদান হিসেবে গ্রহণ করছে। তবে এই শিল্পের সফলতার পেছনে রয়েছে অসংখ্য চ্যালেঞ্জ। খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি, রোগব্যাধি, পরিবেশগত পরিবর্তন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ব্যবস্থাপনার ত্রুটিসহ সবকিছু মিলিয়ে একজন লেয়ার খামারিকে প্রতিদিন নতুন নতুন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিকর দুটি সমস্যা হলো ‘এগ বাইন্ড’ (Egg Binding) এবং ‘এগ পেরিটোনাইটিস’ (Egg Peritonitis)।
সাধারণত একটি বাণিজ্যিক লেয়ার মুরগি সর্বোচ্চ ডিম উৎপাদনের সময় থেকে শুরু করে কালিং (Culling) করার শেষ পর্যায় পর্যন্ত যেকোনো সময়ে এই দুটি সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে। সময়মতো রোগ শনাক্ত ও প্রতিরোধ না করতে পারলে উৎপাদন কমে যায়, মৃত্যুহার বাড়ে এবং খামারির আর্থিক ক্ষতি হয়। মনে প্রশ্ন হতেই পারে ডিম উৎপাদনের সর্বোচ্চ সময় কেন ঝুঁকিপূর্ণ? শুরুতে জানতে হবে লেয়ার মুরগি সাধারণত ১৮-২০ সপ্তাহ বয়সে ডিম দেওয়া শুরু করে। ২৮-৩৫ সপ্তাহ বয়সে উৎপাদন মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় এবং দীর্ঘ সময় ধরে ৯০ শতাংশ বা তার বেশি উৎপাদন ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়।
এই সময়ে প্রতিদিন একটি ডিম তৈরির জন্য মুরগির শরীরে বিপুল পরিমাণ ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, শক্তি, প্রোটিন এবং ভিটামিনের প্রয়োজন হয়। সামান্য পুষ্টিগত ভারসাম্যহীনতা, পানির ঘাটতি, অতিরিক্ত গরম, স্থূলতা অথবা সংক্রমণ প্রজননতন্ত্রে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। বাণিজ্যিকভাবে পালন করা লেয়ার মুরগির উচ্চ উৎপাদনশীল স্ট্রেইনগুলোকে যদি ‘এগ বাইন্ড’ ও ‘এগ পেরিটোনাইটিস’ থেকে ১-২ শতাংশ মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা যায় তাহলে উৎপদিন খরচ কমিয়ে আনা সম্ভব। বিষয়টা এমন যে একটি বাণিজ্যিক খামারে কমপক্ষে ৩ লাখ লেয়ার মুরগি থাকলে এর Livability gvb`Ð হয় ৮৮-৯২ শতাংশ অর্থাৎ মৃত মুরগির সংখ্যা দাড়ায় ৮-১২ শতাংশ যা ২৪-৩৬ হাজার। সাধারণত ‘এগ বাইন্ড’ ও ‘এগ পেরিটোনাইটিস’ ৫৫ থেকে ১০০ সপ্তাহে বেশি দেখা যায়। তবে বিভিন্ন ম্যানেজমেন্টজনিত ত্রুটির কারণে ৩০-৩২ সপ্তাহে এ সমস্যাটি বাড়তে পারে।
এগ বাইন্ড কী?
এগ বাইন্ড হলো এমন একটি অবস্থা, যেখানে ডিমটি ডিম্বনালী দিয়ে স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারে না এবং আটকে যায়। এই সমস্যা যেকোনো বয়সে হতে পারে, তবে সর্বোচ্চ উৎপাদনকাল এবং বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে এর ঝুঁকি বাড়তে থাকে। পোলট্রি গবেষকদের মতে এর প্রধান কারণ অতিরিক্ত স্থূলতা, বড় আকৃতির বা বিকৃত ডিম, অতিরিক্ত তাপজনিত চাপ, ডিম্বনালীর দুর্বল সংকোচন, পানির অভাব এবং সংক্রমণ বা প্রদাহসহ ইত্যাদি।
লক্ষণ
এগ বাইন্ডে আক্রান্ত মুরগি বারবার ডিম পাড়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। এছাড়া দেখা যায় উৎপাদন কমে যাওয়া, খাবার গ্রহণ কমে যাওয়া, ঝিমিয়ে থাকা, পেট ফুলে যাওয়া এবং ছেড়ে দিলে দেখা যাবে মুরগিটির হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে।
চিকিৎসা
এই অবস্থায় মুরগির চিকিৎসা না করলে অনেক ক্ষেত্রে মুরগি মারা যেতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধ করাই উত্তম।
এগ পেরিটোনাইটিস কী?
এগ পেরিটোনাইটিস হলে মুরগিটির ডিম বা কুসুম ডিম্বনালী দিয়ে বাইরে না এসে পেটের গহ্বরে চলে যায় এবং সেখানে সংক্রমণ ও প্রদাহ সৃষ্টি করে। তবে পোস্টমর্টেমে সাধারণত পেটের ভেতরে কুসুম, ফাইব্রিন এবং দুর্গন্ধযুক্ত তরল দেখা যায়। যদি সংক্রমণজনিত কারণে হয় তখন E. coli ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণকে প্রধান জীবাণু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর যদি ডিমের কুসুম পেটে প্রবেশ করে প্রদাহ সৃষ্টি করলে তখন এটি জীবাণুবিহীন কারণ হিসেবে বিবেচ্য হবে।
লক্ষণ
পেট বড় হয়ে যাওয়া, হাঁটতে সমস্যা, উৎপাদন দ্রুত কমে যাওয়া, ওজন কমে যাওয়া, ঝুঁটি ও গলার রঙ ফ্যাকাশে হওয়া, শ্বাসকষ্ট এবং সর্বশেষ মৃত্যু।
পোলট্রি বিশেষজ্ঞদের মতে, এর একমাত্র চিকিৎসা প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। আধুনিক উচ্চ উৎপাদনশীল লেয়ার জাতগুলো বছরে ৩২০-৩৪০টির বেশি ডিম দিতে সক্ষম। ফলে প্রজননতন্ত্রের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ পড়ে। এছাড়া অসম খাদ্য ব্যবস্থাপনা, নিম্নমানের ফিড, পর্যাপ্ত খনিজের অভাব, হিট স্ট্রেস, দুর্বল বায়োসিকিউরিটি ও আগে থেকে হওয়া সংক্রমণ ও এ সমস্যা সৃষ্টি করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
যে সকল ফার্ম ও খামারি এসব বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয় তাদের জন্য লেয়ার মুরগি পালনে অনেক ক্ষতির সম্মুখিন হতে হয়। বাণিজ্যিক ফার্ম ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে ছোট কিংবা মাঝারি পর্যায়ের খামারিদের অসতর্কতার কারণেই মূলত এগ বাইন্ড এবং এগ পেরিটোনাইটিসের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
নারিশ পোলট্রি ও হ্যাচারি লি. থেকে কিছু পরামর্শ:
সাপ্তাহিক মুরগির ওজন নেওয়া
প্রতিসপ্তাহে একবার করে মুরগির ওজন করতে হবে। বাণিজ্যিক খামারগুলো প্রতিটি সেডে একাধিক লাইন ও বহুতল বিশিষ্ট খাঁচা হওয়ায় এতোগুলো মুরগি একসাথে ওজন করা সম্ভব নয়। তাই প্রতি ১০০ খাঁচায় শুরুর, মাঝের ও শেষের কিচূ সংখ্যক খাঁচার প্রতিটি তলার প্রতিটি মুরগির একক ওজন নিয়ে সেটা বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে। যদি ওজন বয়সের মানদ- তুলনায় বেশি হয় তাহলে ফিডিং কমিয়ে দিতে হবে। একইভাবে যদি ওজন কম পাওয়া যায় তাহলে ফিডিং বাড়িয়ে দিতে হবে। এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যেন হঠাৎ করে ফিড কমিয়ে না দেওয়া হয়। অন্যথায় মুরগির হঠাৎ কোন বড় পরিবর্তনে স্ট্রেস হয় ও উৎপাদন কমে যায়। তাই প্রতিদিন সামঞ্জস্য করে অল্প অল্প করে কমিয়ে আনতে হবে কিংবা বাড়াতে হবে। অতিরিক্ত মোটা মুরগিতে প্রজননতন্ত্রের সমস্যা বেশি দেখা যায়। এ জন্য খামারিদের সঠিক বডি ওয়েট বজায় রাখতে হবে।
সুষম খাদ্য নিশ্চিত করা
খাদ্যে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন D3, ম্যাগনেসিয়াম এবং ট্রেস মিনারেল থাকতে হবে। বিশেষ করে বিকেলের খাবারে পর্যাপ্ত বড় দানার লাইমস্টোন ব্যবহার করলে খোসার গুণগত মান উন্নত হয়।
বিশুদ্ধ পানি
নিপল লাইনে কিংবা পানির পাত্রে সর্বদা পরিষ্কার পানির সরবারহ থাকতে হবে। এজন্য গরমের সময় পানির লাইন নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি পানির ওআরপি ও পিএইচ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা।
তাপজনিত চাপ/ হিট স্ট্রেস কমানো
বাংলাদেশের গরম আবহাওয়ায় হিট স্ট্রেস অন্যতম বড় সমস্যা। মুরগির থার্মোরেগুলেটারি বৈশিষ্ট্য দুর্বল থাকায় তাপমাত্রা বেড়ে গেলে হিট স্ট্রেসেই অনেক মুরগি মারা যায়। যদি এ সময় মুরগির সমস্যাগুলো বাড়তে দেখা যায় তবে ফিডিং সময় পরিবর্তন করতে হবে। কুলিং ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত ফ্যান ও ইলেকট্রলাইটের ব্যবস্থা করতে হবে।
বায়োসিকিউরিটি
অনেক ক্ষেত্রেই জীবাণুর সংক্রমণ থেকে এগ পেরিটোনাইটিস শুরু হয়। তাই খামারে দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রণ, ফুটবাথ ব্যবহার, নিয়মিত জীবাণুনাশ স্প্রে করা, ইঁদুর ও পাখি নিয়ন্ত্রণ, পরিষ্কার পরিবেশ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এক্ষেত্রে বাণিজ্যিক খামারগুলো সঠিক বায়োসিকিউরিটির জন্য বিভিন্ন জোনে ফার্মের প্রবেশ ও বাহিরের নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এছাড়া ফার্মে ডুকার আগে গোসল ও ফার্মের কাপড় পরিধান বাধ্যতামূলক বাণিজ্যিক ফার্ম গুলোতে।
এছাড়া খামার পরিদর্শনে আসা ব্যক্তিদের পূর্বের তিন দিনের স্বাস্থ্যের পরিস্থিতি বা জানতে হবে। একই সাথে অন্য ফার্মে সর্বশেষ প্রবেশ, ওই ফার্মের বাজারে কবে গিয়েছিল, বিদেশে সর্বশেষ ভ্রমণ বিষয়ে তথ্য প্রদান করতে হবে।
নিয়মিত পর্যবেক্ষণ
প্রতিদিন খামাওে একবার করে অসুস্থ মুরগি আছে কিনা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। যেসব মুরগি বারবার বসে থাকে, কম খায় অথবা ডিম দিতে কষ্ট পাচ্ছে এরকম মুরগি আলাদা করে পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। ছোট ও মাঝারি খামারে এ পর্যবেক্ষণ সম্ভব হলেও বাণিজ্যিক খামারগুরোতে যেখানে ৫-১০ লাখ মুরগি থাকে সেখানে প্রতিদিন এ ধরনের পর্যবেক্ষণ করা কিছুটা অসম্ভব বলা যায়।
পোস্টমর্টেম করা
মৃত মুরগির পোস্টমর্টেম করলে প্রকৃত রোগ নির্ণয় সহজ হয়। এতে ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হয়। যদি মৃতহার মানদ-ের অতিরিক্ত হয় তখন মৃত মুরগি ল্যাবে পাঠিয়ে সঠিক রোগ (পুষ্টি কিংবা জীবাণুজনিত) বের করতে হবে।
যেভাবে চিকিৎসায় করা হয়
এগ বাইন্ড হলে প্রাথমিক পর্যায়ে অভিজ্ঞ পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম সাপোর্ট, ইলেকট্রোলাইট ও ওজন নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে ওই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তবে মনে রাখতে হবে এগ পেরিটোনাইটিসে সাধারণত চিকিৎসার সাফল্য সীমিত। তাই সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং আক্রান্ত পাখি দ্রুত আলাদা করাই সবচেয়ে ভালো ব্যবস্থা। অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই পশুচিকিৎসকের পরামর্শ এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল স্টুয়ার্ডশিপ নীতি অনুসরণ করা উচিত।
একজন লেয়ার খামারি শুধু এগ বাইন্ড বা এগ পেরিটোনাইটিস নয়, আরও নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়। যেমন ডিমের খোসা পাতলা হওয়া, সফট শেল ও শেলবিহীন ডিম, ডাবল ইয়োক, হঠাৎ ডিম উৎপাদন কমে যাওয়া, ক্যানিবালিজম, ফ্যাটি লিভার হেমোরেজিক সিনড্রোম, প্রোল্যাপস, কক্সিডিওসিস, কৃমি সমস্যাসহ ইত্যাদি। ঊ. পড়ষর সংক্রমণ (বায়োসিকিউরিটি লঙ্ঘন), শ্বাসতন্ত্রের রোগ, পানির মানের অবনতি, মাইকোটক্সিনজনিত সমস্যা, ভ্যাকসিন ব্যর্থতা, ফিডের মান নিয়ন্ত্রণ সর্বপরি বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা। এসব সমস্যার প্রতিটির সঙ্গে উৎপাদন, লাভ এবং খামারের স্থায়িত্ব সরাসরি সম্পর্কিত।
বাংলাদেশের ডিম শিল্প আজ দেশের পুষ্টি নিরাপত্তা ও কৃষি অর্থনীতির অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি। কিন্তু উচ্চ উৎপাদনশীল লেয়ার খামারে উৎপাদনের শিখর থেকে কালিং পর্যন্ত বিভিন্ন সময়জুড়ে এগ বাইন্ড ও এগ পেরিটোনাইটিসের মতো রোগ বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এসব সমস্যা হঠাৎ তৈরি হয় না; অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুষ্টিগত ভারসাম্যহীনতা, পরিবেশগত চাপ, ব্যবস্থাপনার ত্রুটি এবং সংক্রমণের সম্মিলিত ফল হিসেবে দেখা দেয়।
একজন সচেতন খামারি যদি সুষম খাদ্য, নিরাপদ পানি, উন্নত বায়োসিকিউরিটি, নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, সঠিক রেকর্ড সংরক্ষণ এবং সময়মতো পশুচিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করেন, তবে এ ধরনের রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। টেকসই ও লাভজনক লেয়ার খামার গড়ে তুলতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাপনাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু পুষ্টির চাহিদা পূরণই নয়, ডিম উৎপাদন দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
লেখকঃ রায়হান আবিদ
এম. টি. ও, নারিশ পোল্ট্রি এন্ড হ্যাচারি লিঃ
ফোন: ০১৩৩২৫১০৯৫৭
