যথাযথ ভাবগাম্ভীর্য ও মহাসাড়ম্ভরে দেশব্যাপি এক যোগে পালিত হলো দেশে প্রথম বারেরমত "জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ-২০২৫"। গত ২৬-২৮ নভেম্বর তিন দিনব্যাপি ঢাকার পুরাতন বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রাণিসম্পদ বাংলাদেশের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ, যা খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত খাত হিসেবে স্বীকৃত। জাতীয় অর্থনীতিতে এই খাতের অবদানকে টেকসই ও গতিশীল করার লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে গত নভেম্বর মাসের ২৬-২৮ তারিখে "জাতীয় প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ-২০২৫" পালিত হয়।
এবারের জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ এর প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল "দেশীয় জাত, আধুনিক প্রযুক্তি, প্রাণিসম্পদে হবে উন্নতি"।
এই সপ্তাহের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রাণিসম্পদ সেক্টরের বহুমুখী গুরুত্বকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরা, সকল স্তরের অংশীজনকে একত্রিত করা এবং প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে গণসম্পৃক্ততা ও বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা। এর মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও টেকসই প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কাঠামো গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের অন্তর্নিহিত লক্ষ্য।
প্রাণিসম্পদ সেক্টরের অর্থনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব:
বাংলাদেশের জিডিপিতে প্রাণিসম্পদ খাতের সরাসরি অবদান প্রায় ১.৯০%, এবং কৃষিজ জিডিপিতে এর অংশগ্রহণ প্রায় ১৬%। এটি বর্তমানে কৃষির একটি দ্রুত বর্ধনশীল উপখাত। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, এই খাত দেশের মোট শ্রমশক্তির ২০%-এরও বেশি মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, যার প্রায় ৪০% নারী। বিশেষত গৃহপালিত পশু, হাঁস-মুরগি ও দুগ্ধ খামার নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায়ও এই খাত অপরিহার্য। বর্তমানে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৮.৩ বিলিয়ন ডিম, ১০.৮ মিলিয়ন টন দুধ, এবং ৯.২ মিলিয়ন টন মাংস উৎপাদন করে, যা প্রাণিজ প্রোটিনের চাহিদা পূরণে মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা হচ্ছে।
তবে, এই খাত এখনও নানাবিধ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যেমন ক্ষুরা রোগ, বার্ড ফু. ও লাক্ষি স্কিন ডিজিজ (এল এস ডি) প্রাদুর্ভাব, আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণার সঙ্গে খামারিদের দুর্বল সংযোগ, অপর্যাপ্ত কোল্ড চেইন ব্যবস্থা, এবং সংগঠিত বাজার কাঠামোর অভাব। জাতীয় প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ-২০২৫ এই সমস্যাগুলো মোকাবিলায় একটি সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন আয়োজকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে প্রাণিসম্পদ খাতে অবদান রাখা ১৫ জনকে পাঁচ ক্যাটেগরিতে ব্রোঞ্জ, রৌপ্য ও স্বর্ণপদক দেওয়া হয়।
জাতীয় প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ-২০২৫ এর শেষে দর্শনার্থিবৃন্দ প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন করার জন্য অনুরোধ করেন।
"বাংলাদেশ পোল্ট্রি এন্ড ফিস" পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজকদের অভিনন্দন ও
শুভেচ্ছা।