বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল ও ইউ.এস. সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিল এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত: ‘বাংলাদেশ প্রোটিন কুকিং চ্যালেঞ্জ-২০২৬’ অনুষ্ঠিত

ঢাকায় সম্পন্ন হলো ‘বাংলাদেশ প্রোটিন কুকিং চ্যালেঞ্জ-২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফাইনাল
ঢাকা, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬:
দেশব্যাপী পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় প্রোটিন সমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার প্রত্যয়ে সফলভাবে শেষ হলো ‘বাংলাদেশ প্রোটিন কুকিং চ্যালেঞ্জ-২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফাইনাল। ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শনিবার রাজধানী ঢাকায় এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত আসর অনুষ্ঠিত হয়।

টেকসই জাতীয় স্বাস্থ্য, শারীরিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং মেধা বিকাশের ভিত্তি হিসেবে প্রতিটি মানুষের জন্য সহজলভ্য পুষ্টির অধিকার জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠা করাই ছিল এই আয়োজনের মূললক্ষ্য। প্রাত্যহিক খাবারের গতানুগতিক একঘেয়েমি কাটিয়ে সৃজনশীল ও সুস্বাদু রন্ধন প্রণালীর মাধ্যমে সবার কাছে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারকে আরও আকর্ষণীয় ও জনপ্রিয় করে তোলা এবং পর্যাপ্ত পুষ্টির জন্য অতিরিক্ত ব্যয়বহুল উপকরণের প্রয়োজন-এই প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণার অবসান ঘটিয়ে দৈনন্দিন শারীরিক মাপ ও চাহিদা অনুযায়ী সঠিক প্রোটিন গ্রহণের হিসাব সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। পাশাপাশি, টেকসই জনস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে পোল্ট্রি মাংস, ডিম এবং সয়াবিনকে বহুমুখী, পুষ্টিকর ও নির্ভরযোগ্য দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের প্রধান উৎস হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

ÔNourish Your Plate with ProteinÕ’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিলেট, খুলনা ও ঢাকা-এই তিন আঞ্চলিক পর্বের তীব্র লড়াই পেরিয়ে সেরা ২০ জন প্রতিযোগী গ্র্যান্ড ফাইনালে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন। চূড়ান্তপর্বে দুটি রোমাঞ্চকর রাউন্ডের মাধ্যমে রন্ধনশিল্পীদের দক্ষতা যাচাই করা হয়, যার মধ্য থেকে বিচারকদের রায় সেরা ৫জন বিজয়ী নির্বাচন করা হয়।
প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন ঢাকার প্রতিযোগী খন্দকার ফারজানা ইয়াসমিন। এছাড়া প্রথম রানার-আপ হয়েছেন ঢাকার প্রতিযোগী মো. নাহিদ হাসান এবং দ্বিতীয় রানার-আপ হয়েছেন খুলনার প্রতিযোগী মোঃ মিরাজুল ইসলাম।
চূড়ান্ত পর্বে সেরাদের তালিকায় আরও বিজয়ী হয়েছেন-সিলেট থেকে ৪থর্ স্থান অর্জনকারী প্রেইজি সিনহা এমি এবং ৫ম স্থান অর্জনকারী ঢাকার প্রতিযোগী ফারহানা আক্তার নিপা। বিজয়ীদের হাতে তুলে  দেওয়া হয় আকর্ষণীয় পুরস্কার ও ট্রফি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ শাহজামান খান। বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি)-এর আহ্বায়ক মসিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউ.এস. সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিল (ইউএসএসইসি)-এর বাংলাদেশ মার্কেট লিড হাবিবুর রহমান
প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শেফ ও হেড জাজ টনি খান, বিশিষ্ট রন্ধন বিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা রীতা এবং প্রখ্যাত পুষ্টিবিদ ও জনস্বাস্থ্য উপদেষ্টা ইসরাত জাহান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. শাহজামান খান বলেন, “মেধা ও শারীরিক বিকাশের জন্য সুষম খাদ্যে প্রোটিনের বিকল্প নেই। পোল্টি মাংস, ডিম এবং সয়াবিন আমাদের দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদা পূরণে সবচেয়ে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী উৎস। এ ধরনের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মাঝে পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধিতে দারুণ ভূমিকা রাখছে।”
সভাপতির বক্তব্যে বিপিআইসিসি-র আহবায়ক মসিউর রহমান বলেন, “সবার জন্য নিরাপদ ও পর্যাপ্ত প্রোটিন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই আমাদের এই আয়োজন। আঞ্চলিক পর্ব পেরিয়ে আজ জাতীয় ফাইনালে রন্ধনশিল্পীদের যে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমরা দেখেছি, তা সত্যিই প্রশংসনীয়”, এবং ইউ.এস. সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিল (ইউএসএসইসি)-এর বাংলাদেশ মার্কেট লিড খাবিবুর রহমান কাঞ্চন বলেন, “সঠিক পুষ্টি ও প্রোটিনের ঘাটতি দূর করার ক্ষেত্রে সয়াবিন একটি সাশ্রয়ী ও অত্যন্ত পুষ্টিকর বিকল্প। সাধারণ মানুষের রান্নায় সয়াবিনের বহুমুখী ব্যবহার এবং পুষ্টির সঠিক উৎস সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এ ধরনের কুকিং চ্যালেঞ্জ অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে।”
সাবরিনা নওরিন লিমু
মিডিয়াকো-অর্ডিনেটর
যোগাযোগ : ০১৫৫২-৩১৯৯৬৮
বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ েেসন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি)
প্রেসরিলিজ