আসসালামু আলাইকুম, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ, আমাদের শ্রদ্ধেয় সিনিয়র সদস্যবৃন্দ, WPSA-বাংলাদেশ শাখার সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, কার্যনিবাহী কমিটির সহকর্মীবৃন্দ, শিক্ষক, বিজ্ঞানী, গবেষক, ভেটেরিনারিয়ান, খামারি, উদ্যোক্তা, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী এবং পোল্ট্রি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সকল প্রিয়জন-আসসালামু আলাইকুম ও আন্তরিক শুভেচ্ছা।
আজকের এই বার্ষিক সাধারণ সভায় WPSA-Bangladesh Branch-এর সভাপতি হিসেবে আপনাদের সামনে কথা বলার সুযোগ পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। প্রথমেই আমি আমাদের সকল সদস্যের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের আস্থা, পরামর্শ, সময় এবং সহযোগিতাই আমাদের সংগঠনের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমাদের প্রবীণ সদস্য, সাবেক সভাপতি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং পূর্ববর্তী কমিটির সকল সদস্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তাঁদের পরিশ্রম ও দূরদর্শিতার কারণেই WPSA-BB আজ একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
আমরা জানি যে বিশ্ব পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন বা WPSA প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯১২ সালে। এটি বিশ্বজুড়ে পোল্ট্রি বিজ্ঞান, গবেষণা, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং শিল্প উন্নয়নে কাজ করে। বাংলাদেশ শাখার যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৭ সালের জুলাই মাসে। শুরু থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী, বিজ্ঞানী, ভেটেরিনারিয়ান, খামারি, উদ্যোক্তা, সরকার এবং পোল্ট্রি শিল্পের সকল অংশীজনের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করা। আজ আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, WPSA-Bangladesh Branch পোল্ট্রি খাত শুধু ডিম ও মুরগির মাংসের খাত নয়। এটি দেশের সাধারণ মানুষের সাশ্রয়ী প্রাণিজ আমিষের একটি বড় উৎস। এটি লাখো মানুষের কর্মসংস্থান, বহু পরিবারের আয়, নারী উদ্যোক্তার স্বপ্ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতির শক্তি। তাই পোল্ট্রি খাতকে রক্ষা করা ও এগিয়ে নেওয়া মানে দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করা।
বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ডচঝঅ-ইই-কে আরও সক্রিয়, আধুনিক ও দেশব্যাপী কার্যকর করার চেষ্টা করছে। আমরা বিশ্ব ডিম দিবস, প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ, মাস্টার্স গবেষণা অনুদান, নিউজলেটার প্রকাশ, বিভাগীয় কর্মশালা এবং নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেটের কর্মশালার মাধ্যমে আমরা ঢাকার বাইরে সদস্য, খামারি, শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেছি।
আমরা সদস্য ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল করার উদ্যোগ নিয়েছি এবং ধাপে ধাপে এই প্ল্যাটফর্মের পরিধি ও সক্ষমতা আরও বাড়াব। এর মাধ্যমে সদস্যদের তথ্য সংরক্ষণ, সদস্যপদ নবায়ন, অনুষ্ঠান নিবন্ধন, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ খাতভিত্তিক তথ্য দ্রুত ও সহজে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
ভবিষ্যতে আমরা এই প্ল্যাটফর্মকে শুধু সদস্য ব্যবস্থাপনায় সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না; বরং পোল্ট্রি খাতের জ্ঞান, তথ্য, গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অংশীজনদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগের একটি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আমাদের বিশ্বাস, একটি শক্তিশালী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম WPSA-BB-কে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ, সদস্যবান্ধব ও কার্যকর সংগঠনে পরিণত করবে এবং দেশের পোল্ট্রি খাতের উন্নয়নে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে।
ক্ষুদ্র খামারি ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আমাদের উদ্যোগটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা দেখেছি, সঠিক প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা, ভালো ব্যবস্থাপনা এবং বাজার-সংযোগ পেলে ক্ষুদ্র খামারিরাও সফল হতে পারেন। নারীরাও দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে পরিবার ও অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। এই উদ্যোগ আমাদের মনে করিয়ে দেয়-পোল্ট্রি খাত শুধু ব্যবসা নয়; এটি মানুষের স্বপ্ন, আত্মনির্ভরতা এবং মর্যাদার সঙ্গে জড়িত।
প্রিয় সদস্যবৃন্দ, সামনে আমাদের আরও বড় দায়িত্ব আছে। ৩ অক্টোবর ২০২৬ ঢাকায় আমাদের আন্তর্জাতিক কারিগরি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে আমরা ফিড ও বাচ্চার দাম, রোগের ঝুঁকি, উৎপাদন খরচ, জীবন্ত মুরগির বাজারদর, নিরাপদ মাংস, জলবায়ু পরিবর্তন, খামারের মান নিয়ন্ত্রণ, হালাল সার্টিফিকেশন এবং পোল্ট্রি রপ্তানির সুযোগ নিয়ে আলোচনা করব। আমাদের উদ্দেশ্য শুধু সমস্যা বলা নয়; বাস্তব ও কার্যকর সমাধানের পথ বের করা।
এরপর ২০২৭ সালের মার্চে ১৪ তম WPSA-BB আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শো ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এই আয়োজন নতুন প্রযুক্তি, জ্ঞান, গবেষণা, বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বড় একটি সুযোগ তৈরি করবে। আমরা চাই, এসব আয়োজন শুধু আলোচনা বা প্রদর্শনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকুক; বরং দেশের পোল্ট্রি খাতের বাস্তব উন্নয়নে ভূমিকা রাখুক।
প্রিয় সহকর্মীবৃন্দ, পোল্ট্রি খাতের উন্নয়ন একা কারও পক্ষে সম্ভব নয়। বিজ্ঞানী, শিক্ষক, গবেষক, ভেটেরিনারিয়ান, খামারি, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, সরকারি কর্মকর্তা এবং সব অংশীজনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমাদের মত ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশের জন্য আমাদের লক্ষ্য এক-একটি নিরাপদ, লাভজনক, টেকসই এবং বিশ্বমানের পোল্ট্রি শিল্প গড়ে তোলা।
আপনারা জেনে আনন্দিত হবেন যে, ক্ষুদ্র খামারিদের মাঝারি পর্যায়ের টেকসই উদ্যোক্তায় রূপান্তরের লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন Designer ওপেন ও সেমি-ইনটেনসিভ মডেল ফার্ম নিয়ে কাজ শুরু করেছি। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, জৈবনিরাপত্তা, খাদ্যনিরাপত্তা, রোগব্যাধি এবং টেকসই উৎপাদনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য। ইতোমধ্যে দেশের বেশ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান আমাদের এ উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা চাই, এসব মডেল ফার্ম পোল্ট্রি খাতের জন্য অনুসরণযোগ্য মানদন্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় খামারিদের আরও প্রস্তুত, দক্ষ ও সক্ষম করে তুলুক-ইনশাআল্লাহ।
আমি বিশ্বাস করি, বিজ্ঞান, সততা, সহযোগিতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্প সত্যিকারের গেম চেঞ্জার হতে পারে। এটি দেশের পুষ্টি নিশ্চিত করবে, কর্মসংস্থান বাড়াবে, নারী ও তরুণদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করবে, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে এবং একদিন আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পরিচয় উজ্জ্বল করবে।
আসুন, আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করি। আমরা জ্ঞানকে কাজে লাগাই, সমস্যাকে সুযোগে পরিণত করি এবং দেশের পোল্ট্রি শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাই। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা আমাদের সহায় হোন।
সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আসসালামুয়ালাইকুম

